জাতিসংঘের মহাসচিব আন্থোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক শুক্রবার এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানান, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ নিয়ে জাতিসংঘ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ডুজারিক বলেন, “ড. ইউনূসের ভাষণে উল্লেখিত বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ইউনূসের মতামত ও প্রস্তাবনা বিশ্বব্যাপী শান্তি এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ইউনূস তার বক্তব্যে সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমতা এবং মানবাধিকার বিষয়ে গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ড. ইউনূসের জাতিসংঘের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, পাশাপাশি তিনি এখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা- এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংস্থাটির স্থায়ী সংবাদদাতা মুশফিকুল ফজল আনসারী ব্রিফিংয়ে জানতে চান, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস কিছুক্ষণ পূর্বে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন। তিনি ভাষণে বাংলাদেশের জটিল পরিস্থিতি, গাজাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার চলমান যুদ্ধ এবং গাজা ও ইউক্রেনের মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জাতিসংঘের অংশীদার হিসাবে অবদান রেখে চলেছেন। তার আজকের এই ভাষণকে কীভাবে দেখছেন? আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, প্রফেসর ইউনূস এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মধ্যকার বৈঠক নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী জানাবেন?
ড. ইউনূস এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠক ইস্যুতে ডোজারিক সাংবাদিক মুশফিককে জাতিসংঘ থেকে পাঠানো বিবৃতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি বলেন, অধিবেশনে দেওয়া প্রতিটি ভাষণ নিয়ে আমাদের মন্তব্য করার সুযোগ নেই। কোনো দেশ যখন তাদের সবচাইতে সম্মানিত কোনো প্রতিনিধিকে জাতিসংঘে পাঠায় তা আমাদের অবশ্যই সন্তুষ্ট করে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্থোনিও গুতেরেস সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণসহ জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের মধ্যকার ঘনিষ্ট সম্পর্কের বিষয়টিকে সাধুবাদ জানান সংস্থাটির মহাসচিব।
জাতিসংঘের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের চলমান পরিস্থিতি এবং সংস্কার কার্যক্রমে জাতিসংঘ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে পুনরায় আশ্বস্ত করেন গুতেরেস।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়।