অনলাইনে কিশোরীতরুণীরা কোনো না কোনো ভাবে হেনস্তার শিকার হয়ে থাকেন, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই বললেই চলে। এর পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তারা বিরতি নেন না, যেটির মূল কারণ ‘ফোমো’ বা ‘ফিয়ার অফ মিসিং আউট’।
অলাভজনক সংস্থা ‘গার্লগাইডিং’ পরিচালিত ‘গার্লস অ্যাটিটিউড সার্ভে’ নামের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, গত বছর সাত থেকে ২১ বছর বয়সী তিন চতুর্থাংশ (৭৭ শতাংশ) নারীই অনলাইনে হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছে বাজে মন্তব্য, অল্প বয়সী নারীদের অপ্রীতিকর ছবি দেখানো এবং ১১ বছর বা এর বেশি বয়সীদের বুলিয়িং ও হয়রানির মতো ঘটনা।
‘সাইবারস্টকিং’য়ের মতো নেতিবাচক অভিজ্ঞতা দিন দিন আরও নৈমিত্যিক হয়ে উঠছে, যেখানে ১১ থেকে ২১ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে এর মাত্রা ছয় শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ শতাংশে। এমনকি তাদের বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি দেখানোর মাত্রাও নয় শতাংশ থেকে বেড়ে ঠেকেছে ৩৫ শতাংশ।
সাত থেকে ২১ বছর বয়সী নারীরা অনলাইনে এমন লোকজনের খপ্পড়েও পড়েছেন, যারা ভুয়া পরিচয় দিয়েছেন। আর এর সংখ্যা ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ শতাংশে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিকাশ ও বিস্তৃতির বেলাতেও নারীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
১১ থেকে ২১ বছর বয়সী অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৫৯ শতাংশ নারী বলেছেন, এআই ব্যবহার করে হয়ত তাদের ভুয়া ছবি তৈরি এমনকি অনলাইনে তাদের ছদ্মবেশ ধারণ করার ঝুঁকি আছে, যা নিয়ে তারা শঙ্কিত।
এমন নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখে পড়ার পরও ১১ থেকে ২১ বছর বয়সী ৫৭ শতাংশ নারী বলেছেন, তারা ‘ফোমো’ বা ‘ফিয়ার অফ মিসিং আউট’ অর্থাৎ কোনো ঘটনা মিস না হয়ে যায়, সে ভয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছেড়ে যেতে আগ্রহী নন।
নারীদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ভীতিও বাড়তে থাকে, যেখানে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ৫৫ শতাংশ নারীর ও ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সী ৬০ শতাংশ নারীর মধ্যে এ প্রবণতা দেখা যায়।
গার্ল গাইডিং-এর প্রধান নির্বাহী অ্যাঞ্জেলা সল্ট বলেছেন, “যৌন নিপীড়ন দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে, যার ফলে অনেক নারীই অরক্ষিত এবং অনিরাপদ বোধ করছেন।”
গার্লস অ্যাটিটিউড সার্ভে’র ২০২৪ সালের জরিপে অংশ নিয়েছেন সাত বছর থেকে ২১ বছর বয়সী সর্বমোট দুই হাজার সাতশ ৩৪ জন নারী।