প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্যের নানা দর্শনীয় স্থান রয়েছে কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন এলাকা জুড়ে । শহরের পশ্চিমে গুরু দয়াল কলেজের ২০০ মিটার উত্তরে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক এই পাগলা মসজিদ। এর দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলীও বেশ চমৎকার। তিন তলা বিশিষ্ট পাগলা মসজিদের ছাদে তিনটি বড় গম্বুজ এবং ৫ তলা ভবনের সমান একটি মিনার বহুদূর থেকে সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক হয়বতনগর জমিদার বাড়ির ঈসা খানের বংশধর দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর ‘পাগলা সাহেব’ নামক একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তি নরসুন্দা নদীর তীরে বসে নামাজ পড়তেন।

পরবর্তীতে স্থানটিতে মসজিদটি নির্মত হয়। জিল কদর পাগলার নামানুসারে মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।অন্য এক সূত্র থেকে জানা যায় তৎকালীন কিশোরগঞ্জের হয়বতনগর জমিদার পরিবারের এক নিঃসন্তান বেগমকে জনগণ ‘পাগলা বিবি’ বলে ডাকত। দেওয়ানবাড়ির এ বেগম নরসুন্দার তীরে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করলে ‘পাগলা বিবির মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়।তবে ২০০ বছরের পুরানো এই মসজিদ নির্মাণ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। পাগলা মসজিদটি শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বীর কাছে নয়, এর আশেপাশের অঞ্চলে সব ধর্মাবলম্বীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে ঘন্য। এই মসজিদে মানত কিংবা দান খয়রাত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়- এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী হিন্দু-মুসলিমসহ নানা ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ মানত নিয়ে এখানে আসেন।

২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে রেকর্ড ৬ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়।৪ মাস ১০ দিন পর ২০ এপ্রিল ২০২৪ দানবাক্স খুলে ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা পাওয়া যায় । সাথে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।১৭ আগষ্ট ২০২৪ দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৭ কোটি ২২ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও।তবে এর দানকৃত অর্থ এই মসজিদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ছাড়াও,ব্যবহার করা হয়ে থাকে বিভিন্ন সামাজিক কাজেও। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কোভিদ 19 ও বন্যা দুর্গত মানুষের পুনর্বাসনের সাহায্যের কাজে।