জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল না। তবে তিনি একথাও স্বীকার করেন যে, দলটি ভারতের সহযোগিতায় দেশ স্বাধীন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা আশঙ্কায় ছিল, কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল স্বাধীনতার পর যদি ভারত সহায়তা করে, তাহলে স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কখনোই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল না। তবে আমরা মনে করেছিলাম যে, ভারতের সহায়তায় যদি দেশ স্বাধীন হয়, তাহলে সেই স্বাধীনতার সুফল আদায় করা সম্ভব হবে না।” তিনি আরও বলেন, “এটা সঠিক যে, জামায়াত তখন এক পাকিস্তান চেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পাকিস্তান শাসকদের নিপীড়ন, নির্যাতন এবং অত্যাচারের কারণে পুরো জাতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। এই পরিস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্যতা সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল।”ডা. শফিকুর রহমান পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশকে নিজের হৃদয়ের গভীরে গ্রহণ এবং ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশকে আমরা আমাদের কলিজা দিয়ে ভালোবেসে কবুল করেছি।রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় যায় তখন তাদের নিষিদ্ধের ঘোর পেয়ে বসে। নিষিদ্ধের রাজনীতি আমাদের সমর্থনের বিষয় না। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিষয়। অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা, সেটি জনগণই ঠিক করবে।নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কিছু সংস্কার করবে আর কিছু সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার। আমরা মনে করি নৈতিক দায়বদ্ধতা আছে বর্তমান সরকারের। তারা তাড়াহুড়া নেই বলে এই বিষয়টি টেনে লম্বা যেনো না করে এই কথা আমরা বারবার বলেছি।প্রসঙ্গত, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় দলটিকে। সব মিলিয়ে বেশ কায়দা করেই রাজনীতির মাঠে টিকে থাকতে হয়েছে দলটির নেতা-কর্মীদের। ৫ আগস্ট এর গণঅভ্যুত্থানের পর অনেকটা মধুর সময় পার করছে জামায়াত।