দেশের আলোচিত ব্যবসায়ী পরিবার এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।সোমবার (১৮ নভেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সংস্থাটির অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাতের সই করা একটি তলবি চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে তলবকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ২০ ও ২১ নভেম্বর দুদকে উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তলবকৃতদের নিজ নিজ পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চাকতাই শাখার গ্রাহক মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, জুবিলি রোড শাখার গ্রাহক ইউনাইটেড সুপার ট্রেডার্স, এবং খাতুনগঞ্জ শাখার গ্রাহক সেঞ্চুরি ফুড প্রোডাক্টসের নামে ঋণ পরিদর্শন ও মনিটরিং-সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।চিঠিতে ২০ নভেম্বর যাদের তলব করা হয়েছে- বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগের যুগ্মপরিচালক সুনির্বাণ বড়ুয়া, অনিক তালুকদার, অতিরিক্ত পরিচালক শংকর কান্তি ঘোষ, ছলিমা বেগম, উপপরিচালক মো. জুবাইর হোসেন ও রুবেল চৌধুরী।২১ নভেম্বর যাদের তলব করা হয়েছে- বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক সৈয়দ মু. আরিফ-উন-নবী, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মো. শোয়েব চৌধুরী, মো. মঞ্জুর হোসেন খান ও মো. আব্দুর রউফ, উপপরিচালক লেনিন আজাদ পলাশ এবং পরিচালক মো. সরোয়ার হোসাইন।প্রসঙ্গত, মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম সারওয়ার চৌধুরী, জুবিলি রোড শাখার গ্রাহক ইউনাইটেড সুপার ট্রেডার্স, খাতুনগঞ্জ শাখার গ্রাহক সেঞ্চুরি ফুড প্রোডাক্টসসহ অন্যান্যরা ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংকে থেকে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ঘটনায় এর আগে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ২৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল দুদক। এর মধ্যে গত ২১ আগস্ট এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দুদক।