বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকি গোস্যা হয়েছে এবং কষ্ট পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা দখল করতে এলে আমরা কি ললিপপ খাব?’’ এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘‘আমি বলে রাখি, আপনারা চট্টগ্রামের দিকে তাকালে আমরা কি আমলকি চুষব?’’মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহীর ভুবন মোহন পার্কে ‘দেশীয় পণ্য কিনে হও ধন্য’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।এসময় তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জনগণের প্রতি দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম সরকার, ওয়ালিউর রহমান রানা প্রমুখ।তিনি বলেন, বিজেপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, মুসলিম বিদ্বেষ রাজনীতি করে। এটা সবাই জানে। যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ বিজেপির মতো কথা বলে তখন বোঝা যায়, রসুনের গোড়া এক জায়গায়। ভারতের রাজনীতিবিদের গোড়াও এক জায়গায়। ভারতের এক নেতা বলছেন, এবার চট্টগ্রাম আমরা দাবি করব। আরে আপনাদের তো উদ্দেশ্য খারাপ। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের একটি অংশ আপনারা দাবি করবেন। আপনারা প্রথমে এ কথা বলেছেন, এগুলো আপনাদের দায়িত্বশীল একজন নেতার কথা। আমি বলেছিলাম, আপানারা যদি দাবি করেন, তাহলে আমাদের নবাবের যে অংশ বাংলাবিহার, উড়িষ্যা সেটাও আমরা দাবি করব।রিজভী বলেন, আমাদেরকে বিজেপি মনে করে তাদের অধীনস্থ দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। আমরা ৩০ লাখ জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি, আমরা আমাদের স্বাধীনতা কিনেছি এতো মানুষের আর্তনাদ, এতো নারীর সম্ভ্রমহানীর বিনিময়ে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশের কথা শুনে মনে হয়- বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের সার্বভৌম কিছুই তাদের কাছে বিবেচ্য নয়। আমি ভারতের জনগণকে বলছি না, আমি বলছি সম্প্রদায়িক শাসকগণকে।তিনি আরো বলেন, ‘আপনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমরা জানতাম আপনি ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষ, অসম্প্রদায়িক মানুষ। আপনাদের গভীরে যে কট্টর হিন্দুত্ববাদ রয়েছে সেটা আমরা দেখলাম। আপনি বলেছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো দরকার। কি কারণে আপনি পাঠাবেন? আপনি অন্যদেশকে এই কথা বলতে পারেন না। আপনি আন্তর্জাতিক আইনকানুন জানেন না। আপনার এই কথায় ভারতের কেউ কেউ প্রতিবাদ করেছে। আপনারা সবসময় মনে করেন- বাংলাদেশ আপনাদের তাবেদার। এই কারণে আপনারা শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত প্রিয়পাত্র মনে করেন। শেখ হাসিনা যেহেতু পালিয়ে গেছে। সেই কষ্ট নিয়ে আপনাদের শাসকগোষ্ঠীর প্রত্যেকেই মন খারাপ হয়ে বসে আছেন। তারা এখন অপপ্রচার-অপতথ্যগুলো মিডিয়ার মাধমে প্রচার করছে। তাতে কোনো লাভ হবে না।’
চিকিৎসা প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের দেশে অনেক ভালো ভালো চিচিকৎসক আছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিচ্ছেন। একসময় ভারতের মুর্শিদাদ থেকে বাংলাদেশের রাজশাহীতে চিকিৎসা করাতে আসত অনেক মানুষ। ৬০ এর দশকে ডা. কায়সার রহমান চৌধুরীর মতো চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়েছেন। আমাদের শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে। আমাদের অনেক চিকিৎসক দেশ ও বিদেশে লেখাপড়া করেছে। শুধু মাত্র একটু কেয়ারফুলি যত্ন দিলে একটা লোকও ভারতে যাবে না।