খেতে ভালবাসেন অনেকেই, তবে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় ওজন কমানোর জন্য জিমে যাওয়া বা কঠোর ডায়েট অনুসরণ করতে হয়, যা অনেকের জন্য একেবারেই কষ্টকর। তবে ওজন কমানো শুধুমাত্র কঠোর ব্যায়াম এবং ডায়েটের মাধ্যমে সম্ভব নয়, একটু সচেতনতা ও নিয়মিত অভ্যাসই এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটাচলা করলে তা ওজন কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। হাঁটা একটি সহজ শরীরচর্চা যা শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হালকা হাঁটা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সক্রিয় রাখে এবং শারীরিক শক্তি বাড়ায়।অস্ট্রেলিয়ার পুষ্টিবিদ রাইজ উইথ টিগান জানিয়েছেন জিমে না গিয়ে কোনও কড়া ডায়েট না করেই ১৯ কেজি ওজন কমিয়েছেন তিনি। কীভাবে এই অসাধ্য সাধন করলেন তিনি? নিজের ইনস্টাগ্রামে সেই সিক্রেট ভাগ করে নিয়েছেন পুষ্টিবিদ।রইল সহজেই ওজন কমানোর ৫ টিপস—ক্যালোরি কমানো: নিজের সমাজমাধ্যমে টিগান জানিয়েছেন, তিনি দিনে ৫০০ কম ক্যালোরি গ্রহণ করেন। যা তার নিজের শরীরের দৈনন্দিন চাহিদার থেকেও কম। সেই জন্যও ডায়েটেও বদল এনেছেন তিনি।হাঁটা বাড়ান: মেদ ঝরাতে হাঁটার কোনও বিকল্প নেই। তবে একদিনে অনেকটা হাঁটা যায় না। তাই ধীরে ধীরে সেই পরিমাণটা বাড়ান। প্রথমে ৫০০০ পা তারপর ১০,০০০ পা এইভাবে নিয়মিত একটু করে নিজের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন।বাড়িতেই শরীরচর্চা: মেদ ঝরাতে একটু ওয়ার্ক আউট করতেই হবে। তবে তার জন্য অন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি শরীর না দিলে প্রতিদিন করতে হবে না। টিগান জানিয়েছেন তিনি সপ্তাহে ৩ থেকে ৫ বার ৩০ মিনিটের জন্য কঠিন শরীর চর্চা করেন।নিজের যত্ন নিন: রোগা হবেন নিজের শরীর, মন সম্পর্কে সচেতন হবেন না, যত্নশীল হবেন না তা কখনও হয় নাকি। টিগান জানান, মানসিক চাপ কমাতে, প্রতিদিন যোগা, শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যয়াম করা এবং ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা প্রতিদিন ঘুমোনো নিশ্চিত করতেই হবে।নিজের দিকে মনোনিবেশ করুন: টিগান জানিয়েছেন, তিনি ওজন কমানোর প্রতিজ্ঞা করার পরে আর অন্যরা কী করছেন সেই দিকে নজর দেননি। এমনকি বাকিরা শুকিয়ে যাচ্ছে তিনি হচ্ছেন না সেই ভাবনাও ভাবেননি। কেবল নিজের জীবন, নিয়মের দিকেই মন দিয়েছিলেন। তার পরামর্শ নিজেরাও বাকিরাও তাই করুন, নিজের ওপর ভরসা রাখুন, আর নিয়ম মেনে চলুন, সাফল্য আসবে।