নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসেও গুণগত কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ছে না। তিনি মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আয়োজিত ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের প্রতিবাদ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন।মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসেও আমরা গুণগত কোনো পরিবর্তন দেখতে পাইনি। পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। সরকারের ব্যর্থতার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, যা মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।”তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, সরকার যদি অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশের মানুষ আরও বড় সংকটে পড়বে। ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের কর্মীরা এই প্রতিবাদ সমাবেশে সরকারের স্বৈরাচারী নীতি ও অর্থনৈতিক দুর্দশার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে মান্না বলেন, আপনি কেন জিনিসের দাম কমাতে পারছেন না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে পারছেন না এবং কেন পাঁচ মাসে কোন গুণগত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না— সেটা জানতে চাই, জানাতে হবে।ড. ইউনূসের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন দেশ হওয়ার মতো একটা পদক্ষেপ কি আপনি গ্রহণ করেছেন? কোনো একটা জায়গাতে বৈষম্য দূর হয়েছে? আমরা যারা রাজনৈতিক দল করি, তারা কিন্তু আপনাকে অযথা উত্ত্যক্ত করে না। আমরা জানি, ৫০ বছর ধরে যে বৈষম্য বাংলাদেশের মাটিতে টিকে আছে, সে বৈষম্য এক দিনে দূর করা যাবে না। কিন্তু, আমরা তো আপনাকে জিজ্ঞেস করতেই পারি, কোন যুক্তিতে আপনি টিসিবির ট্রাকের পণ্য বন্ধ করে দিয়েছেন? এক কোটি পরিবারকে আপনি যদি কার্ড দিয়ে থাকেন, তাহলে ৪৪ লাখ কার্ড কোন যুক্তিতে আপনি বন্ধ করে দিয়েছেন? আপনি পরিবারের যে কার্ডগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন, এটা করার কোনো দরকার ছিল না।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জিনিসপত্রের দাম কমানোর ব্যাপারে এই সরকারের কোনো উদ্যোগ নিতে আমরা দেখিনি। পাঁচ মাসে এ সরকারের কোনো সাফল্য নেই। অর্থনীতিতে যিনি নোবেল পেয়েছেন, তিনি অর্থনৈতিক কোনো গতি দিতে পারেননি। ড. ইউনূসকে খুবই সম্মান করি। কিন্তু যেটা বাস্তব, সেটা বলতে হবে।নাগরিক ঐক্যের সভাপতি আরও বলেন, আপনি মেট্রো লেভেলে বড় কাজ করেছেন, তা তো নয়। আপনি ক্ষুদ্র ঋণের ওপরে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু, এখন দ্রব্যমূল্যের কারণে গরিব মানুষের মধ্যে শান্তি বিরাজ করে না। যে কারণে ড. ইউনূস নোবেল পেয়েছেন, সেটি এখন নস্যাৎ হয়ে গেছে। সেই কাজ এখন মানুষের কোনো কল্যাণে আসছে না।সমাবেশে বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, নির্বাচনের জন্য মানুষ রক্ত দিয়েছে। নির্বাচন দরকার, নির্বাচিত সরকার দরকার। অনির্বাচিত সরকার বেশি দিন থাকতে পারে না। আগামীতে আমরা নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছি। এ সরকারকে আমরা ক্ষমতায় নিয়ে এসেছি। আমরা চাই, এ সরকার সফল হোক।দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ অন্যান্যরা।