ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আসন্ন অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বইমেলা প্রাঙ্গণের ভিতর এবং বাইরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ সাদা পোশাক ও ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করবে।এছাড়া, মেলার নিরাপত্তার জন্য ড্রোন ব্যবহার করে মনিটরিং করা হবে এবং সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল টিমকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে। এসব নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ মেলায় আগত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হচ্ছে।এসময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) হাসান মো. শওকত আলীসহ সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বুধবার (২২ জানুয়ারি) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন বইমেলা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ডিএমপির সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতি বছরই অমর একুশে বইমেলার আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে চলবে অমর একুশে বইমেলা। বইমেলা ঘিরে ডিএমপি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।বইমেলায় গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বইমেলার ভেতরে ও চারপাশে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় থাকবে ওয়াচ টাওয়ার, ফায়ার টেন্ডার। থাকবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।তিনি বলেন, অন্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে থাকবে অনুষ্ঠানস্থল সুইপিং করা, সাদা পোশাকে বিশেষ টিম মোতায়েন, বিলবোর্ড, ব্যানার ও মাইকিং করে দিক-নির্দেশনা দেওয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং।
শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, প্রত্যেক দর্শনার্থীকে আর্চওয়ে দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে হবে। বড় ব্যাগ, কার্টন, দাহ্য পদার্থ নিয়ে মেলায় কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রতিবারের মতো এবারও মেলায় থাকবে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার, হেল্প ডেস্ক ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র। আলো থাকলে মানুষ নিরাপত্তা বোধ করে, এজন্য সার্বক্ষণিক আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।বইমেলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আগত দর্শনার্থীদের সুস্বাস্থ্য রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ডিএমপি কমিশনার।সর্বোপরি সবার সহযোগিতা ও সমন্বয়ে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশে এবারের বইমেলা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।সভার শুরুতে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) এ, এফ, এম তারিক হোসেন খান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বইমেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।পরে অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ এর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বয় সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, বাংলা একাডেমি, ফায়ার সার্ভিস, ডিপিডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মতামত তুলে ধরেরেন।