কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলিশ হেফাজত থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই মামলার আসামি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান বাবুকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. সুজায়েত হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।এ ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হামলা, গ্যাং হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আক্রমণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বাবু ও তার সহযোগীরা পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করে। এছাড়া মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।এর আগে, শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের বাহাদিয়া গ্রামে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার এ ঘটনা ঘটে।অভিযুক্ত নুরুজ্জামান বাবু উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন। তার বাড়ি উপজেলার কামারকোনা গ্রামে। তিনি মৃত মনিরুজ্জামানের ছেলে।জানা গেছে, গত বছরের ২০ জুলাই ও ৪ আগস্ট পাকুন্দিয়া উপজেলা সদরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলার ঘটনায় পাকুন্দিয়া থানায় দায়ের করা দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বাবু। একটি মামলার বাদী বিএনপি কর্মী মো. নজরুল ইসলাম। তিনি গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ৯৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ৮০-৯০ জনকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় মামলা করেন। এ মামলায় নুরুজ্জামান বাবু ১৭ নম্বর আসামি।অপর মামলার বাদী উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি মো. মোস্তফা। তিনি গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর ৭১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ৫০-৬০ জনকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় নুরুজ্জামান বাবু ১০ নম্বর আসামি।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. সুজায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আসামি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বাবুকে গ্রেপ্তার করতে উপজেলার বাহাদিয়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় তার চিৎকারে আওয়ামী লীগের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো. শাখাওয়াৎ হোসেনসহ একদল পুলিশ গিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি নুরুজ্জামান বাবুসহ জড়িতদের ধরতে অভিযান চালায়। তবে এ অভিযানে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৫০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।