গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য জিমি আমির জানিয়েছেন, সরকার তাদের দ্রুত গণমাধ্যম সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করতে বলেছিল এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এগুলো অর্ডিন্যান্স আকারে প্রণয়ন করা হবে। কিন্তু পরে প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ আটকে যায়। ফলে আমলারা নিজেদের ক্ষমতা রক্ষায় বাধা সৃষ্টি করেছে।রোববার (১০ আগস্ট) সিপিডি আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক সেমিনারে প্যানেল সদস্য হিসেবে তিনি জানান, মার্চ মাসে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। দেশে গত বহু বছর ধরে গণমাধ্যম কোনো নিয়মবিধি বা কাঠামো ছাড়া চললেও তা ঠিক করার সময় মাত্র তিন মাস ছিল। কিন্তু তাদের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো সরকারের কাছে তেমন গুরুত্ব পায়নি।জিমি আমির আরো বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সব রাজনৈতিক দল বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করলেও গণমাধ্যম সংস্কারের কথা একবারও ওঠেনি। ফলে যারা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসবে তারা বলতেই পারে, গণমাধ্যম নিয়ে কোনো আলোচনা না থাকায় সংস্কারও হয়নি।কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ সংবাদ পরিবেশ গড়ে তোলা। পাশাপাশি করপোরেট মিডিয়া হাউজ সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে গণমাধ্যমকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু এসব কাজ করা সম্ভব হয়নি।তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অনেক গণমাধ্যমে সাংবাদিকরা মাসে মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা বেতন পান। অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু প্রেস কার্ড দিয়ে সাংবাদিকদের নিজের খরচ নিজেই চালাতে বলেন। এতে করে অনেক সাংবাদিক অন্য উৎস থেকে আয় করার পথ খোঁজে, যা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এবং নিরপেক্ষ সংবাদ কর্মে বাধা সৃষ্টি করে।জিমি আমির বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক দল মাঠের সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়, কিন্তু মিডিয়া হাউজের বড় বড় কর্তারা সব ক্ষমতা নিজ হাতে ধরে রাখে। মাঠের সাংবাদিকরা বিপদে পড়লেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ আমলাদের কারণে আটকে আছে।