ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদা জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি টিংকুর রহমান বিশ্বাস গতকাল, ১১ ডিসেম্বর, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে এক বিতর্কিত বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশ দখলের হুমকি দেন, যা রাজ্য ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তাঁর মন্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য ছিল বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নিপীড়নের অভিযোগ, যার বিরুদ্ধে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।টিংকুর রহমান বিশ্বাসের বক্তব্যে বলা হয়, “১৫ মিনিটে বাংলাদেশ দখল করা সম্ভব।” এই বক্তব্যটি রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পর্যায়ের এমন একজন নেতা এই ধরনের বক্তব্য রাখায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বেড়েছে। যদিও এই মন্তব্যে কিছু তৃণমূল নেতারা বিরোধিতা করলেও, তা রাজ্য রাজনীতির জন্য বড় একটি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে টিংকুর রহমান বিশ্বাস বলেন “১৫ মিনিটের জন্য বর্ডার খুলে দেয়া হোক, পশ্চিমবাংলার সংখ্যালঘু মুসলিমরা বাংলাদেশ দখল করে নেবে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এই জেলার নেতা বলেন, ‘মঙ্গলবারও আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বিএনপি’র নেতা আমাদের মানবিক মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করেছেন। আমি বলতে চাই আমরা সংখ্যালঘু মুসলিম যারা আছি, তারা আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমি বলেছি ১৫ মিনিটের জন্য বর্ডার খুলে দিন বাংলাদেশ দখল করে নেব। পুলিশ লাগবে না ফোর্সও লাগবে না।টিংকুর রহমান দাবি করেন, “বাংলাদেশ একটা ছোট্ট রাষ্ট্র যার জন্ম দিয়েছে ভারতবর্ষ। ১৯৭১ সালে সাত লাখ শরণার্থীকে খাওয়া দাওয়া করিয়ে নিজের দেশে পাঠিয়েছিল ভারত। সেই বাংলাদেশ আজকে যে জাতির পিতাকে চিনে না, মূর্তি ভাঙে, তাদের থেকে আমরা আর কী আশা করতে পারি।”ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে তৃণমূলের এই নেতা আরও বলেন, ‘‘গোটা ভারতবর্ষ লাগবে না, আমরা ৩২ কোটি মুসলমান থাকি ভারতবর্ষে। এতো জনও লাগবে না। আমরা পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরাই দখল করে নিতে পারবো।’’একই দিনে (বুধবার) মমতা বন্দোপাধ্যায় কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ভারতের কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিতর্কিত এই আবদার জানিয়ে মমতা বলেন, ‘‘কেন্দ্রকে অবশ্যই সহিংসতা-বিধ্বস্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং যারা ফিরতে ইচ্ছুক তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।’’