বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আর কোনোদিন মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, অতীতে শেখ হাসিনার পক্ষে ভারত কিছু করেছে, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ভারতের উচিত ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া, আর টালবাহানার অবসান করা।এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, গণতান্ত্রিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু এবং মৎস্যজীবী দলের সদস্য ইসমাইল হোসেন সিরাজীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভায় বক্তারা বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ভারতকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।এছাড়া আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিম সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং তিনি বলেন, বাংলাদেশ কখনোই তার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করবে না, এবং দেশের সীমানা সংক্রান্ত সকল সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত জরুরি।বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক ফোরামের উদ্যোগে জনগণের উপর অযৌক্তিক ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক বিভাজন চাই না, দেশে সবার ওপরে জনগণ থাকবে।জিয়াবাদ বা মুজিববাদও আর চাই না-জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এমন বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, যে জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন, যে জিয়া বাংলাদেশকে মুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত দিয়েছেন, যেই জিয়া সার্ক গঠন করেছেন, যেই জিয়া খাল খনন করে কৃষকদের সেচের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যে জিয়ার রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধান করেছেন; সেই জিয়াবাদ নিয়ে দয়া করে কোনো মন্তব্য করবেন না।তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, হাসিনার পতন শুধু জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং গণতান্ত্রিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন করেছি। জেল জুলুম হামলা মামলা সব সহ্য করেছি। রাতে আমাদের ঘুম হারাম ছিল, কবরস্থানে ঘুমিয়েছি।তিনি আরো বলেন, সবাই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনাকে বিদায় করতে পেরেছি। আমরা আশা করি বাংলাদেশে এমন একটি নির্বাচন দেবেন ড. ইউনূস, সে নির্বাচনে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। বাংলাদেশে সংস্কার হবে, আইন প্রণয়ন হবে। সব কিছুই হবে, কিন্তু তার আগে ষড়যন্ত্র করে ১/১১ এর মতো বিলম্বিত করার কোনো অবকাশ বাংলাদেশে আর হবে না।বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই উপদেষ্টা বলেন, অনেকেই বলে বিএনপির লোক চলে যাবে। আওয়ামী লীগ এত বছর জুলুম নির্যাতন করেও বিএনপির একটি কর্মীও এত বছরে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়নি। অতএব বিএনপি খাঁটি গণতন্ত্রী, বিএনপি সংবিধানে অনুগত, বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদদের আদর্শের দল। আমরা জীবন দেব, বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছি, সামনেও করব।
ফারুক বলেন, বাংলাদেশে আর ডিম, চাল, পেঁয়াজের সিন্ডিকেট হবে না। এমন বাংলাদেশ গড়ব, যে বাংলাদেশের বিচারের নামে আর প্রহসন হবে না। এমন বাংলাদেশ গড়ব, যেই বাংলাদেশে আর আয়নাঘর হবে না। এমন দেশ গড়ব, যে দেশে আর দুর্নীতি হবে না। এমন বাংলাদেশ গড়ব, যে দেশে আইনের শাসন চলবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তি ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে সফল করেছে। সেই সফলতা যেন নষ্ট না হয়।