চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক প্রবাসীর বসতঘরে ঢুকে নারী, বৃদ্ধ ও যুবকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাত আড়াইটা ও ভোর ছয়টার দিকে দু’দফায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিলপুর মোহাম্মদ ইব্রাহীমের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।এতে আহত হন বারখাইন ইউনিয়নের সৈয়দ কুচাইয়া এলাকার মো. আরাফাত (২২), মো. তাছিন (১৬), মো. জাহেদ (২১) ও রিজিয়া বেগম (৬০)। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। তবে আহতরা চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফের হামলার শিকার হন বলে দাবি করেছেন তারা।ভুক্তভোগী নারী রেহানা আকতার সাংবাদিকদের বলেন, তার স্বামীসহ তিন ভাই প্রবাসে থাকেন। তিনি ছেলে সন্তান ও বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী শামসুল আলমের সঙ্গে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরোধ চলছিল। বিভিন্ন সময়ে তারা জমি জোরপূর্বক দখল ও ভরাটের চেষ্টা চালালেও বৃদ্ধ শ্বাশুড়ির প্রতিবাদের মুখে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনার পর জুঁইদন্ডী এলাকার মো. সালাউদ্দীন প্রকাশ জাহেদ নামে বিএনপির যুবদল নেতা পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাদের হুমকি দেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনকে জানানো হলেও বৃহস্পতিবার রাত ও সকালে তার নেতৃত্বে ২০-২৫ জন লোক জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে মারধর করে।তিনি আরও বলেন, ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারা আবারও আমাদের ওপর হামলা চালায়।এ ঘটনায় বারখাইন ইউনিয়নের সৈয়দ কুচাইয়ার শামসুল আলম (৫৮), জান্নাতুল মাওয়া ববি (৩০), জান্নাতুল মোকাদ্দেস (৫৫), জুঁইদন্ডীর মো. সালাউদ্দীন প্রকাশ জাহেদ (৩৫), ইসহাব উদ্দীন বল্লী (৩৩) নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন রেহানা আকতার।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. সালাউদ্দীন প্রকাশ জাহেদ বলেন, তাদের দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে সালিশী বৈঠকে শামসুল আলমের আত্মীয়তার কারণে আমি প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। ঘটনার সময়ও প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি এবং মারামারি শুরু হলে আমি নিজেই ফোন করে পুলিশ ডাকি।আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, বারখাইনে জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।