আমি চাকরির সুবাদে ঢাকায় এসেছি আজ থেকে ১৮ মাস আগে। আমার দেশ শ্রীলংকা, শ্রীলঙ্কাও একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ নয়। বাংলাদেশের মানুষ জানে আমাদের দেশের সরকার কিছুদিন আগে দেউলিয়া হয়েছিল। এখন আমরা তা আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছি। কারণ আমাদের দেশের মানুষ সুশিক্ষিত। আমাদের শিক্ষার একটা মান আছে। তবে বাংলাদেশের ব্যাপারটা আমি তেমন জানিনা। তবে শুরু থেকেই আমি এদেশের মানুষের কিছু আচরণ দেখে অবাক হই। রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে অর্ধেক রাস্তা ভরে রেখেছে,গাড়ি থেকে রাস্তায় ময়লা ফেলছে, আর ফুটপাতের অবস্থা যদি বলতে যায় সেটা আরো ভয়াবহ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে শ্রীলংকার মানুষ সম্পূর্ণ আলাদা।শ্রীলংকার মানুষ কখনো রাস্তায় একটা বোতল বা টিস্যু ফেলে না। আন্দোলন করার জন্য রাস্তায় নেমে কখনো যানজট সৃষ্টি করে না। আমি গত দুইদিন আগে ঢাকা বনানী থেকে গাজীপুর বাঘের বাজার গিয়েছিলাম, টানা ছয় ঘন্টা জাগায় বসে ছিলাম, একপর্যায়ে আমার গাড়ির জ্বালানি শেষ হয়ে পড়ে,কিছু লরির ড্রাইভারকে লরিতে বসেই ঘুমাতে দেখি। রাস্তায় আগুন ধরানো হচ্ছে, ভাঙচুর করা হচ্ছে কেউ কোথায় যেতে পারছে না। এটা আমি এদেশে প্রায়ই দেখে থাকি জ্বালাও,পোড়াও ভাঙচুর রাস্তা অবরোধ ইত্যাদি। গত সপ্তাহ ১০ দিন আগে আমার দেশের জাতীয় নির্বাচন শেষ হয়েছে। কিছু কারণে এখন আমার দেশে হরতাল পালিত হচ্ছে। আর তারা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসে তা পালন করছে। এদেশে হাজার হাজার গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিস রয়েছে, সোয়েটার ফ্যাক্টরি রয়েছে, লক্ষ লক্ষ প্রবাসী রয়েছে। এই দেশ খুব তাড়াতাড়ি উন্নতি করা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন সুশিক্ষা।বাংলাদেশের মানুষের চেয়ে শ্রীলংকার মানুষ অনেক বেশি সুস্থ থাকে। আমি এই দেশে আসার পর থেকে কেমিক্যাল মুক্ত কোন খাবার পাইনি।তাই আমি সবকিছু শ্রীলংকা থেকে নিয়ে আসি, চাল, ডাল, মাছ, মাংস, মসলা সবকিছু।গুণগত মানের দিক দিয়ে শ্রীলংকা বর্তমানে অনেক এগিয়ে তবে বাংলাদেশের মানুষ চাইলেই তাদের এই সুন্দর দেশটিকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে শুধু তাদের নিজের দেশের এবং মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থাকতে হবে আর নিজের দেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মনোভাব বৃদ্ধি করতে হবে।
প্রতিবেদক:রাসেল